চ্যাটজিপিটি নির্মাতা এ প্রতিষ্ঠানের এমন ব্যতিক্রমী পদক্ষেপকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান এ প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, মার্কিন জনগণকে কোম্পানির আর্থিক অংশীদার করার মাধ্যমে এআইয়ের সুফল সবার মাঝে সমবণ্টন করা সম্ভব। এ খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের অন্য শীর্ষ এআই কোম্পানিকেও ৫ শতাংশ হিস্যা সরকারের তহবিলে জমা দিতে হবে। তবে অ্যানথ্রোপিক, গুগল ও মেটার মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এ প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত রাজি হবে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের চুক্তি সম্পন্ন হলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে প্রযুক্তি খাতের চলমান দূরত্ব অনেকটাই ঘুচবে। একই সঙ্গে এআই খাতে অর্জিত বিপুল সম্পদ সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেয়া সম্ভব হবে। ফলে কোম্পানিগুলো বড় ধরনের রাজনৈতিক সমর্থন পাবে এবং সরকারি নানা নিয়মকানুনের কড়াকড়ি থেকেও কিছুটা রেহাই পাবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি খাতের সুরক্ষায় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এআই কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ দিন দিন বাড়ছে। গত মাসে জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে বিদেশী নাগরিকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার নির্দেশ দেয় দেশটির সরকার। এতে ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক নতুন এআই মডেলের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল। অবশ্য পরবর্তী সময়ে সরকারের নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করার পর গ্রাহকদের জন্য সেবাটি আবার চালু করা হয়।
স্যাম অল্টম্যানসহ ওপেনএআইয়ের অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা একটি বিশেষায়িত বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে তারা আলাস্কা পার্মানেন্ট ফান্ডের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি মূলত খনিজ তেলের রাজস্ব হিস্যা বাজারে বিনিয়োগ করে এবং স্থানীয় নাগরিকদের নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদান করে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আলোচনাটি এখনো একেবারেই প্রাথমিক ও ধারণাগত পর্যায়ে রয়েছে। এ ধরনের বড় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিক মার্কিন হিস্যা বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, শেয়ারবাজারে এলে প্রতিটি কোম্পানির বাজারমূল্য ১ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।